প্রতিবছর বাংলদেশ থেকে অসংখ্য তরুন-তরুনী পড়াশুনার উদ্দেশ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পাড়ি জমিয়ে থাকে। তবে এক্ষেত্রে প্রায় সময় নানা ধরনের অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা। তবে এবার নতুন বছরের শুরুতেই বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য সুসংবাদ দিল কানাডা। এমনকি তারা জানিয়েছে এখন থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশিদের স্কলারশিপটি দেওয়া হবে।
নতুন বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের উপহার দিল কানাডা সরকার। উপহারস্বরূপ ’এডুকানাডা স্টাডি ইন স্কলারশিপ’-এ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামটি চালু করেছে দেশটির সরকার। ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর বাংলাদেশিদের এখন থেকে স্কলারশিপটি দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। রোববার (১০ জানুয়ারি) বাংলাদেশের কানাডিয়ান দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে এ তথ্য নিশ্চিত করে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছে। কানাডা সরকারের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স থেকে কানাডার আনুষ্ঠানিক সংস্থা ডিপার্টমেন্ট অব ফরেন অ্যাফেয়ার্স, ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ডিএফএটিডি) থেকে উন্নয়নশীল কয়েকটি দেশের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও মাস্টার্স অধ্যয়নরত ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপটি দেওয়া হয়।

এতে শিক্ষার্থীরা এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে ফুল ফিন্যান্সিয়াল সাপোর্ট নিয়ে কানাডার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় পড়তে আসতে পারেন। এই কয়েকটি দেশের মধ্যে এ বছর বাংলাদেশকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এশিয়া থেকে এখন আছে মাত্র তিনটি দেশ-বাংলাদেশ, নেপাল, তাইওয়ান।
বর্তমানে বাংলাদেশে যারা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্ডারগ্র্যাজুয়েট কিংবা মাস্টার্সে পড়াশোনা করছেন, এমন যে কেউ আবেদন করতে পারবেন। বিশেষত আন্ডারগ্র্যাজুয়েট যারা পড়ছেন, এটা তাদের জন্য একটা বড় সুযোগ। চার মাস বা এক সেমিস্টারের জন্য স্কলারশিপটি দেওয়া হয়। এই এক সেমিস্টাররে কোনো একটা নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে কোর্সওয়ার্ক বা রিসার্চ ওয়ার্ক ইত্যাদি সম্পন্ন করতে হয়। এর যাবতীয় খরচ কানাডা সরকার বহন করে।

এই স্কলারশিপে যারা মনোনীত হবে, তারা ১০ হাজার ২০০ কানাডিয়ান ডলার পাবেন ৪ মাসের জন্য যা সম্পূর্ণ ট্যাক্স ফ্রি। বাংলদেশি টাকায় সাড়ে ৬ লাখের বেশি (১ কানাডিয়ান ডলার সমান ৬৬ টাকা ৯৩ পয়সা)। ছয় মাসের রিসার্চের জন্য যেসব মাস্টার্সের শিক্ষার্থীরা আসবেন, তারা ১২ হাজার ৭০০ কানাডিয়ান ডলার পাবেন (প্রায় সাড়ে ৮ লাখ টাকা)। এই টাকা দিয়ে মূলত ভিসা ফি, আসা–যাওয়ার প্লেনের টিকিট, থাকার খরচ, হেলথ ইনস্যুরেন্সসহ আনুষঙ্গিক সব খরচ বহন করা হবে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীকে এক পয়সাও ব্যয় করতে হবে না

অবশ্যে বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্ব জুড়ে বিরাজ করছে প্রাননাশকারী করোনা ভাইরাসের প্রকোপ। এই ভাইরাসের প্রকোপে বিশ্ব জুড়ে দেখা দিয়েছে নানা ধরনের সমস্যা। এমনকি গোটা বিশ্বের শিক্ষাখাত ও হু/ম/কি/র মুখে পড়েছে। তবে বিশ্বের রাষ্ট্র প্রধানরা নানা কৌশলী অবস্থান নিয়েছে এই সংকট নিরসনের জন্য। বিশেষ করে কানাডা সরকার বিশ্ব ব্যপী বেশ প্রসংশিত হয়েছেন করোনার সময় নেওয়া তার উদ্যেগের জন্য।