বর্তমান সময়ে দূর্নীতি প্রসঙ্গে বেশ বিপাকে পড়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকন। এমনকি এই সূত্র ধরে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গেও তর্ক-বির্তকে মেতে উঠেছেন সাবেক এই মেয়র। এছাড়াও তিনি সম্প্রতি দুই মামলার শিকার হয়েছেন। তবে এবার খোকনের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন তাপস।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের বিরুদ্ধে করা দুটি মামলা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস। মঙ্গলবার (১২ জানুয়ারি) সাকরাঈন উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরশনের মেয়র এ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ব্যক্তিগত আক্রোশে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নানা অভিযোগ ও বিরূপ মন্তব্য মানুষের কাছে হাস্যরসে পরিণত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে যে দুটি মামলা হয়েছে, তার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। অতি উৎসাহী হয়েই হয়তো তারা মামলা করেছেন। তাদের করা মামলা আমি প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। এর আগে সোমবার (১১ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজেশ চৌধুরীর আদালতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বিরুদ্ধে ’মানহানির বক্তব্য’ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক মেয়র সাঈদ খোকনের নামে পৃথক দুটি মামলা করা হয়। একটি মামলার বাদী কাজী আনিসুর রহমান, অপর মামলার বাদী অ্যাডভোকেট মো. সারওয়ার আলম।

গত শনিবার (৯ জানুয়ারি) রাজধানীতে এক মানববন্ধনে শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন বলে দাবি করেন সাবেক মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন। লিখিত বক্তব্যে সাঈদ খোকন বলেন, দক্ষিণ সিটির বর্তমান মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস তার পদে থাকার যোগ্যতা হারিয়েছেন। মেয়র তাপস দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলাবাজি করে চলেছেন। আমি তাকে বলব, রাঘব-বোয়ালদের মুখে চুনোপুঁটির গল্প মানায় না। দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গড়তে হলে সর্বপ্রথম নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তারপর চুনোপুঁটির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে। সাবেক মেয়র আরও বলেছিলেন, ফজলে নূর তাপস দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের শত শত কোটি টাকা তার নিজ মালিকানাধীন মধুমতি ব্যাংকে হস্তান্তরিত করেছেন এবং এ শত শত কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা লাভ হিসাবে গ্রহণ করেছেন এবং করছেন।

রাজনৈতিক অঙ্গনে কিছু অসাধু ব্যক্তি রয়েছে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য রাজনীতিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে। এমনকি এই রাজনীতির আশ্রয়ে তারা করছে নানা ধরনের অন্যায় কর্মকান্ড। এবং এই সকল অপরাধ কর্মকান্ডের মধ্যে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমানের অর্থ।