২০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ সালে ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ঘটে ভ/য়া/ব/হ অ/গ্নি/কা/ণ্ডের ঘটনা। এই ঘটনার দুই বছর পূর্ন হয়েছে। এই ঘটে যাওয়া ঘটনায় এখনও অনেকেই অসহায়েত্বের সঙ্গে জীবন-যাপন করছেন। ঐ স্থানটি পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তবে অনেখেই নানা ধরনের অভিযোগ করে আসছে। এবার এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত উঠে এলো প্রকাশ্যে।
পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় দুই বছর আগে অর্থাৎ ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে ভ/য়া/ব/হ অ/গ্নি/কা/ণ্ডে ৭১ জনের প্রা/ণ/হা/নি ঘটে। এই ঘটনায় নি/হ/ত/দে/র স্বজনদের ভাগ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহায়তায় চাকরি জুটেছে, তবে তা সু্ইপার পদে। এছাড়া তাদের চাকরি নিয়মিত নয়, মাস্টাররোলে। উপার্জনক্ষম বাবা, স্বামী কিংবা সন্তানের মৃ/ত্যু/র পর চাকরি দেয়ায় তারা সিটি করপোরেশন তথা সরকারের কাছে কৃতজ্ঞ, তবে খুশি নন। তারা সুইপার পদের বদলে অন্য কোনো পদে এবং মাস্টাররোলের পরিবর্তে পারমানেন্ট (নিয়মিত) চাকরি চান। রোববার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে চুড়িহাট্টার যে বাড়িটি থেকে (ওয়াহেদ ম্যানসন) অ/গ্নি/কা/ণ্ডে/র সূত্রপাত হয়েছিল সেই বাড়ির সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি শেষে এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে নি/হ/ত/দে/র একাধিক স্বজন বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিটির মৃ/ত্যু/র কারণে আমাদের চাকরি করতে হচ্ছে, তারা বেঁচে থাকলে চাকরি করার প্রশ্নই উঠত না। কিন্তু আমাদের সুইপার পদে চাকরি দেয়া হয়েছে তা করার মতো না। তাও আবার মাস্টাররোলে। তারা এ পদটির পরিবর্তে অন্য কোনো পদে এবং মাস্টাররোলের পরিবর্তে নিয়মিত কোনো পদে চাকরি দেয়ার জন্য আবেদনপত্র জমা দিলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সেদিনের ঘটনায় অ/গ্নি/দ/গ্ধ হয়ে মা/রা যাওয়া শাহিন মোল্লার স্ত্রী বলেন, চাকরির ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। কিন্তু সুইপার পদ ও মাস্টাররোলে চাকরির কোনো ভরসা নেই। আমার স্বামীই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি, উনি মা/রা গেছেন, কাল আমি মা/রা গেলে আমার ছোট ছোট তিনটি সন্তান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে? তিনি সুইপার পদের বদলে অন্য কোনো পদে এবং চাকরিটি যেন নিয়মিত হয় সেটা চান। তিনি জানান, ঘটনার দিন মসজিদ থেকে বের হয়ে তার স্বামী ওয়াহেদ ম্যানশনের বিপরীত দিকের হোটেলের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তখনই বি/স্ফো/র/ণ ঘটে। মা/রা/ত্ম/ক/ভা/বে অ/গ্নি/দ/গ্ধ হয়ে মা/রা যাওয়ায় স্বামীর লা/শ চিনতে পারেননি তিনি। ১৬ দিন পর ডি/এন/এ পরীক্ষার মাধ্যমে শাহিনের লা/শ শ/না/ক্ত হয়। দেড় বছর বয়সী সন্তানকে কোলে নিয়ে বসেছিলেন সেদিনের ঘটনায় নি/হ/ত আলীর স্ত্রী। ওই ঘটনায় তার স্বামী, আড়াই বছর বয়সী ছেলে ও দেবর মা/রা যান। যে শিশুটিকে কোলে নিয়ে বসে আছেন সে তখন গ/র্ভে, তিনি তখন ছয় মাসের অ/ন্তঃ/স্ব/ত্ত্বা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ছেলেটির ভাগ্য এতই খারাপ যে বাপ, বড় ভাই ও চাচার আদর পেল না।

সেদিনের ঘটনায় অ/গ্নি/দ/গ্ধ হয়ে নি/হ/ত ২২ বছরের যুবক রেজাউল করিমের বৃদ্ধা মা বলেন, ছেলেটা নয়দিন হাসপাতালে মৃ/ত্যু/র সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মা/রা গেছে। চাকরির সূত্রে ছেলে থাকতো কেরানীগঞ্জে আর তারা থাকেন গাজীপুরে। ঘটনার নয়দিন পর রেজাউল নিজেই হাসপাতাল থেকে ফোন করে জানায় সে দুর্ঘটনায় আ/হ/ত হয়েছে। খবর পেয়ে হাসপাতালে এসে দেখেন ছেলেটা এমনভাবে পুড়েছে যে চেনার উপায় নেই।

চুড়িহাট্টার যে বাড়িটি থেকে অ/গ্নি/কা/ণ্ডে/র সূত্রপাত হয়ে সেই ওয়াহেদ ম্যানসনের সামনে মানববন্দন কর্মসূচি পালন করেছে ক্ষতিগ্রস্থদের স্বজনরা। এবং তারা তুলে ধরেছেন তাদের বর্তমান পরিস্তিতি। এমনকি নানা ধরনের অভিযোগ তুলেছে অনেকেই। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের হারিয়ে অসহায়েত্বের সঙ্গে জীবন-যাপন করছে অনেকেই।