বাংলাদেশ-ভারত সহ সমগ্র পৃথিবী জুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করছে প্রাননাশকারী কোভিড১৯ ভাইরাসের সংক্রমন। তবে এই ভাইরাস থেকে পরিত্রান পেতে বিশ্বের বেশ কিছু দেশ ভ্যাকসিনের ব্যবহার শুরু করেছে। বাংলাদেশও ভারত থেকে ভ্যাকসিন আমদানি করে ব্যবহার শুরু করেছে। ইতিমধ্যে দেশের অসংখ্য মানুষ এই ভ্যাকসিন গ্রহন করেছে। তবে হঠাৎ করেই ভারত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রফতানি বন্ধ করেছে এমন একটি উঠে এসেছে। তবে এবার এই প্রসঙ্গে বেশ কিছু কথা জানালেন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান।
ভারত অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রফতানি বন্ধের কোনো খবর সরকারের হাতে নেই বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান। বৃহস্পতিবার (২৫ মার্চ) সময় সংবাদকে এ কথা জানান তিনি। শুক্রবার ভারত থেকে উপহার হিসেবে ঢাকায় আসার কথা রয়েছে ১২ লাখ ভ্যাকসিন বলেও জানান স্বাস্থ্য সচিব। এদিকে আইইডিসিআর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীর জানান, এপ্রিল পর্যন্ত টিকার মজুত আছে। টিকা পাওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে তা অচিরেই কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ করোনা ভাইরাসের টিকা কিনতে গত বছর নভেম্বরে যে চুক্তি হয়েছিল তার মধ্যে দুই চালানে ৭০ লাখ এবং উপহার হিসেবে পাওয়া ২০ লাখসহ ৯০ লাখ ডোজ টিকা ইতিমধ্যে বাংলাদেশ হাতে পেয়েছে বলেও জানান তিনি। এর আগে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনাভাইরাসের টিকা রফতানি সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ করে ভারত। বুধবার (২৫ মার্চ) দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানিয়েছে বিবিসি। বিবিসি জানায়, নিজেদের চাহিদার জোগান দিতেই এ সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর মধ্য দিয়ে কোভ্যাক্সের ১৯০টি দেশের ওপর প্রভাব পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভারতের বৃহত্তম ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক, সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া (এসআইআই) সম্প্রতি যুক্তরাজ্য ও ব্রাজিলসহ বেশ কয়েকটি দেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের চালান পাঠাতে বিলম্ব করেছে। ভারত এখন পর্যন্ত ৭৬টি দেশে ছয় কোটি ডোজেরও বেশি ভ্যাকসিন রফতানি করেছে যা বেশির ভাগই অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার।
ভারতের এই সিদ্ধান্ত এমন সময়ে এল, যখন দেশটি করোনায় খুবই খারাপ সময় পার করছে। বুধবার দেশটিতে প্রায় ৪৭ হাজার নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং অন্তত ২৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
করোনা ভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকায় নিজস্ব চাহিদার কথা মাথায় রেখে ভারত সেরাম ইনস্টিটিউটে উৎপাদিত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার রফতানি সাময়িকভাবে স্থগিত করায় বাংলাদেশসহ প্রায় ৭৬টি দেশের সেরাম থেকে টিকা পাওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সম্প্রতি আবারও বাংলাদেশ-ভারত সহ পৃথিবীর বেশ কিছু দেশে এই ভাইরাসের প্রবনতা মারাত্মক আকার ধারন করেছে। এখন পর্যন্ত ভারতে এই ভাইরাসটিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ৮৭ হাজার ৫৩৪ জন। এবং বাংলাদেশে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার ৮০৮ জন।