দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব জুড়ে বিরাজ করছে প্রাননাশকারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমন। এই ভাইরাস থেকে বিশ্ববাসীকে পরিত্রান দেওয়ার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষকরা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করেছে। অবশ্যে কয়েকটি ভ্যাকসিন ব্যবহারের জন্য অনুমোদন পেয়েছে। তবে এই ভ্যাকসিন ব্যবহারকে ঘিরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। এক জরিপে এই বিষয়ে উঠে এসেছে বিস্তারিত।
যুক্তরাজ্যে ৪০ হাজার লোকের ওপর চালানো একটি জরিপের পর বলা হচ্ছে ফাইজার ও অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার উদ্ভাবিত করোনাভাইরাসের টিকা ‌’অত্যন্ত নিরাপদ।’ ব্রিটেনের ওষুধ নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষও বলছে, কিছু সামান্য ও প্রত্যাশিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়া এসব টিকা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত নিরাপদ। ব্রিটেনে এ পর্যন্ত ১ কোটিরও বেশি লোককে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। লন্ডনের কিংস কলেজের ’জো অ্যাপস’ নামের গবেষণা দলটি - অন্তত ১ ডোজ টিকা নিয়েছেন এমন ৪০ হাজার লোকের ওপর জরিপটি চালায়। তারা তাদের রিপোর্টে বলছেন, এর মধ্যে এক-তৃতীয়াংশের কিছু বেশি লোকের কিছু না কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়েছে, যার কোনোটিই গুরুতর কিছু নয়, এবং যে কোনো টিকা নিলে এমন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াই সাধারণত হয়ে থাকে।

ব্যথা ও ফোলা
রিপোর্টটি বলছে, ৩৭ শতাংশের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলতে ছিল ব্যথা এবং টিকা দেবার জায়গাটিতে ফুলে যাওয়া। দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন এমন লোকদের মধ্যে ৪৫ শতাংশের এ প্রতিক্রিয়া হয়েছে।

জ্বর, গায়ে ব্যথা, গা শিরশির করা
যারা এক ডোজ টিকা নিয়েছেন, তাদের ১৪ শতাংশের ক্ষেত্রে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছিল টিকা নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে জ্বর, গায়ে ব্যথা, গা-শিরশির করা, দুর্বল বোধ করা বা মাথাব্যথা। যারা দুটি ডোজ নিয়েছেন তাদের ক্ষেত্রে ২২ শতাংশ পর্যন্ত লোকের এমন প্রতিক্রিয়া হয়েছে এবং এই পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কয়েক দিনের মধ্যে ভালো হয়ে গেছে। ডাক্তাররা বলেছেন, এসব পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে টিকা গ্রহণকারীরা প্যারাসিটামল খেতে পারেন। গবেষকরা বলছেন, সবগুলো মেডিকেল ট্রায়াল ও বাস্তব জগতের অভিজ্ঞতা থেকেই দেখা গেছে যে, এই টিকাগুলো নিরাপদ ও কার্যকর।

গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া
ফাইজার-বায়োএনটেকের তৈরি টিকাটি নিলে অত্যন্ত বিরল কিছু ক্ষেত্রে গুরুতর অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়া হতে পারে- কিন্তু তার পরিমাণ খুবই কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, প্রতি ১ লাখ ডোজ গ্রহণকারীর মধ্যে এক বা দুই জনের ক্ষেত্রে গুরুতর প্রতিক্রিয়ার খবর পাওয়া গেছে। ডাক্তাররা অবশ্য ইতোমধ্যেই বলেছেন যে, যাতে গুরুতর অ্যালার্জির ইতিহাস আছে, তাদের ফাইজার-বায়োএনটেকের টিকাটি নেওয়া উচিত হবে না। ব্রিটেনের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলছে, ব্রিটেনে টিকা নিয়েছেন এমন এক কোটিরও বেশি লোকের মধ্যে ১৪৩ জন টিকা নেওয়ার পর মা/রা গেছেন - কিন্তু এসব মৃ"ত্যু কোনভাবেই টিকা নেওয়ার সাথে সম্পর্কিত নয়, তাই এ নিয়ে ভয় বা দুশ্চিন্তার কিছু নেই।

টিকা নেওয়ার পর

লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালের ড. অ্যানা গুডম্যান বলেছেন, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকে বুঝে নিতে হবে যে আপনার দেহ টিকায় সাড়া দিচ্ছে। তবে কোনো টিকা থেকেই ১০০% সুরক্ষা হয়তো পাওয়া যাবে না, তাই টিকা নেওয়ার পরও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। টিকা নেওয়ার পর দেহে করোনাভাইরাস প্রতিরোধী ক্ষমতা পুরোপুরি তৈরি হতে দু-তিন সপ্তাহ সময় লাগে বলে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন।

বিশ্ব জুড়ে এই ভয়াবহ প্রাননাশকরী করোনা ভাইরাস মারাত্মক রুপ ধারন করেছে। এমনকি ভাইরাসটি দেখা দেওয়ার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গোটা বিশ্ব জুড়ে মোট আক্রান্ত হয়েছে ১০ কোটি ৫৯ লাখ ৭৮ হাজার ২৬ জন। এবং প্রান হারিয়েছে ২৩ লাখ ১০ হাজার ৭৩৬ জন। তবে এই ভয়াব হ ভাইরাসটির সঙ্গে লড়াই করে সুস্থতা লাভ করতে সক্ষম হয়েছে ৭ কোটি ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার ১৯৫ জন।