অর্থনৈতিক লেনদেন নিরাপত্তা এবং সঠকি ভাবে পরিচলানার ক্ষেত্রে ব্যাংকের গুরুত্ব অপরিসীম। তবে অনেকে ক্ষেত্রে আমনতকারী এবং গ্রহনকারী বিভিন্ন ধরনের ভূলের শিকার হয়ে থাকে। এবার এমনি এক ভুলের শিকার হলো মার্কিন ব্যাংকিং জায়ান্ট সিটি গ্রুপ। ১৫ লাখ ডলার পাঠাতে গিয়ে ভুল করে ৯০ কোটি ডলার পাঠিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছে সিটি ব্যাংক।
কিছু কিছু ভুল আছে শোধরানোর নয়—এমনটা এখন ভাবতেই পারে মার্কিন ব্যাংকিং জায়ান্ট সিটি গ্রুপ। কিছুদিন আগে প্রসাধনী প্রস্তুতকারক কোম্পানি র‌্যাভলন ইনকরপোরেশনের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান হেজ ফান্ড ব্রিজ ক্যাপিটালসহ কিছু প্রতিষ্ঠানকে ১৫ লাখ ডলার পাঠাতে গিয়ে ভুল করে ৯০ কোটি ডলার পাঠিয়ে ফেলে সিটি ব্যাংক। ’অপারেশন মিসটেকের’ কারণে বড় অঙ্কের এই অর্থ ট্রান্সফার হয়ে যায়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৭ হাজার ৬৪২ কোটি টাকা। এখন এই অর্থ ফেরত পাওয়া বড় বিপাকে পড়েছে ব্যাংকটি। মার্কিন জেলা আদালতের একজন বিচারক রায় দিয়েছেন, ভুলক্রমে র‌্যাভলনের ঋণদাতাদের কাছে পাঠানো প্রায় অর্ধ বিলিয়ন ডলার পুনরুদ্ধার করতে দেওয়া হবে না সিটি ব্যাংককে।

র‌্যাভলনের ঋণ এজেন্ট হিসেবে কাজ করে সিটি ব্যাংক। র‌্যাভলনের পক্ষে ব্রিজ ক্যাপিটালকে ৮০ লাখ ডলার সুদের অর্থ প্রেরণ করার কথা ছিল ব্যাংকটির। ঘটনা হচ্ছে, এই অর্থ ট্রান্সফার ভুলে প্রায় ১০০ গুণ বেশি ট্রান্সফার করে ফেলে সিটি ব্যাংক। এমন আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠানটি বেশি বেশি অর্থ দিয়ে ফেলে। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ কোটি ডলার ভুল ট্রান্সফার করে ফেলে সিটি ব্যাংক। ট্রান্সফার হওয়া অর্থ বেশ কয়েকজন প্রাপক তাৎক্ষণিকভাবে ফেরত দিলেও এখনো ৫০ কোটি ডলার উদ্ধার হয়নি। সিটি এখন এই অর্থ ফেরত চাইলেও তারা তা দিচ্ছে না। এ অবস্থায় ওই কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে অর্থ ফেরত পেতে আদালতের যায় সিটি।

আইনে যা আছে
আইন অনুযায়ী, যারা তাদের হিসাবে ভুলক্রমে জমা হওয়া অর্থ ব্যয় করে, তাদের শাস্তি দেওয়ার বিধান রয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনে এমন ভুল প্রায়ই ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ ফেরত দিলেই সমস্যা মিটে যায়। পেনসিলভানিয়ার এক দম্পতি ভুলক্রমে তাঁদের অ্যাকাউন্টে জমা হওয়া অর্থ ব্যয় করে গুরুতর অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে সিটির আসলেই কপাল খারাপ। নিউইয়র্কে এই আইনে নিয়মের ব্যতিক্রম রয়েছে, যা ডিসচার্জ ফর ভ্যালু ডিফেন্স নামে পরিচিত। অর্থাৎ যার কাছে অর্থ গেছে, তার যদি তা পাওয়ার কথা থাকে এবং সে এই ভুলের বিষয়ে যদি অবগত না হয়, তাহলে তা সে রাখতে পারে।

সিটির যে ভুল হয়েছিল
র‌্যাভলনের ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা মনে করেছিল যে সিটি ব্যাংক আগের একটি ঋণ পরিশোধ করেছিল। কারণ, ট্রান্সফার হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিল একদম ঋণের সমান। এটি যে সুদ পরিশোধের অর্থ ছিল, তারা তা ভাবেনি। আদালত রায় দিয়েছেন যে ঋণদানকারীরা ওই অর্থ নিজেদের প্রাপ্য বলেই ভেবেছিল। এমনকি সিটি ব্যাংক নিজেও প্রায় এক দিন পর্যন্ত তাদের ভুল ধরতে পারেনি। আদালতের নথিতে বলা হয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ আর্থিক প্রতিষ্ঠান সিটি ব্যাংক এমন এক ভুল করেছে, যা আগে কখনো হয়নি। প্রায় ১০০ কোটি ডলার।

এদিকে ভূল করে পাঠানো অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পেতে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ব্যাংকটি। তবে অতিরিক্ত অর্থ ফেরত পেতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ব্যাংকটি। এমনকি মার্কিন জেলা আদালতের একজন বিচারক রায় দিয়েছেন, ঋণদাতাদের কাছে পাঠানো ডলার পুনরুদ্ধার করতে দেওয়া হবে না সিটি ব্যাংককে।